বেলেবেলে জোছনায় দাগ

0
611

বৈঠা বাওয়ার ঝপঝপ শব্দ রাতের নীরবতা ভেদ করে বহুদূর থেকে শোনা যাচ্ছে। আব্দুল মোমেন শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে বৈঠা বাইছে। তাকে অনেকটা পথ যেতে হবে। সব কাজ শেষ করে আবার ভোর হবার আগেই তাকে ফিরতে হবে। প্রায় বছরখানেক ধরেই চলছে এই রাতের অভিসার। ঝড়-বৃষ্টি যাই হোক প্রতি সপ্তাহের একটি রাতে তাকে নিশাচর হতেই হয়।

খুব সাবধানে ছোট একটি নৌকা নিয়ে তাকে গাছাকাটা ছরি ক্যাম্প থেকে বিলাইছড়ি যেতে হয়। যাতায়াতের এক মাত্র অবলম্বন নৌকা। বহু কষ্টে ম্যানেজ করতে হয় নৌকা। তবুও তাকে যেতে হয় মায়ার টানে। দু’পাশে পাহাড় ঘেরা ছরার ভেতর দিয়ে জোছনার আলোয় পথ চলছে আব্দুল মোমেন। তার সাথে অবশ্য তিন ব্যাটারির একটা টর্চও আছে কিন্তু টর্চ ব্যবহার করার উপায় নেই। টর্চের আলো দেখলেই বিপদ তার দিকে তেড়ে আসবে।

বৈঠা বাইতে বাইতে আব্দুল মোমেন তার ছোট ছোট ছেলে-মেয়ের মুখ মনে করে। ওমনি তার শুক্ন ঠোঁটে এক চিলতে হাসি খেলে ওঠে। এমন সময় তার নৌকার উপর টুপ করে কিছু একটা পরে। প্রথমে একটু ভয় পেয়ে যায় সে তারপর আস্তে আস্তে এগিয়ে যায় একটা শব্দ ধরে। শব্দটার কাছে গিয়ে টর্চের উপর গামছা ধরে আব্দুল মোমেন যেন আলোটা দূর থেকে দেখা না যায়। নৌকার উপর ঝুঁকে দেখার চেষ্টা করে ঘটনাটা কী- হায় আল্লাহ! এতো একটা বাদুড়ের বাচ্চা। হয়ত অন্ধকারে গাছে ঝুলে ছিলো, বাতাসের ধাক্কায় ছিটকে পরে কাতরাচ্ছে।

আব্দুল মোমেন বাদুড়টা হাতে নিয়ে উড়াতে চেষ্টা করে কিন্তু ওর একটা ডানা ভেঙে গেছে, এটা দেখে খারাপ লাগে তার। নৌকাটা পাহাড় ঘেঁষে দাঁড় করিয়ে বাদুড়টা একটা চারা গাছে রেখে আসে সে। তারপর আবার বৈঠা বায়। এই নৌকাটা কিন্তু তার না। এটা এক চাকমার নৌকা।

আজ সকালে নৌকাটা ক্যাম্পে নিয়ে এসে বেঁধে রাখা হয়। নৌকার মালিক মিং চাকমা একটা গুরুতর অপরাধ করেছে। সরকার এখন মাছ ধরা নিষেধ করেছে কারণ এখন মাছের ডিম ছাড়ার সময়। আষাঢ়-শ্রাবণ মাসের এই সময়টা মাছ ধরা দন্ডনীয় অপরাধ। মিং চাকমা সব নিষেধ উপেক্ষা করে মাছ ধরছিলো। পুলিশের দুই সিপাহী তাকে দেখতে পেয়ে আব্দুল মোমেনকে খবরটা দেয়। আব্দুল মোমেন তাদের সিনিয়র। তিনি দ্রুত আরেকটা নৌকা নিয়ে মিং চাকমাকে ধরে। কিন্তু নৌকায় তেমন কিছুই চোখে পড়ে না। এমন সময় আব্দুল মোমেন দেখে নৌকার নিচে একটা চিকন দড়ি বাঁধা। দড়ি ধরে টান দিতেই সবার চোখ কপালে উঠলো। দড়ির সাথে বিশাল বিশাল মাছ বাঁধা। বড় বড় মাছের কলসার ভেতর দড়ি দিয়ে নৌকার সাথে ঝুলিয়ে রেখেছিলো। মাছগুলো পানির ভেতর থাকায় এগুলো সহজে কারো নজরে পরে না। আব্দুল মোমেন মাছগুলো গুনে দেখে ৭টি রুই আর ১১টি কাতল মাছ। মাছগুলোর প্রত্যেকটার ওজন ২৫/২৬ কেজি। যে মাছগুলো তাজা ছিলো সেগুলো নদীতে ছেড়ে দিল আর বাকীগুলো ক্যাম্পে নিয়ে এলো আব্দুল মোমেন। সেই সাথে মিং চাকমাকেও নিয়ে এলো।

সারাদিন তাকে ক্যাম্পে বসিয়ে রাখলো। থানায় খবর দিতে গেলে মিং এসে পা জড়িয়ে ধরে।আব্দুল মোমের কেন জানি ওকে দেখে মায়া হয়। এক সময় গরিব মানুষটির আকুতি-মিনতি দেখে তাকে ছেড়ে দেয়। মিং চাকমা যখন চোখ মুছে ফিরে যাচ্ছিল আব্দুল মোমেন তখন তার হাতে কিছু টাকা ধরিয়ে দিল। মাছের দাম। পুলিশ হলে কী হবে তার ভেতর মানবতা আছে। গরিব মানুষটা সারাদিন ক্যাম্পে আটকা ছিলো তার উপর মাছগুলোও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ওর ছেলেমেয়েরা নিশ্চয়ই উপোস। তারা ওর পথ চেয়ে বসে আছে। বাবা হয়ে সন্তানদের ক্ষুধার্ত মুখ দেখা বড় কষ্টের। মিং চলে যাবার আগে সন্ধ্যায় তার নৌকাটা ঘাটে বেঁধে রাখতে বলেছিলো।

সন্ধ্যা পার হতেই নৌকার বৈঠা হাতে বিলাইছড়ির পথে চলতে শুরু করেছে সে। সব ঠিকঠাক থাকলে আর ঘণ্টা দুয়েক পর সে পৌঁছে যাবে ঘাটে। তারপর ঝোপের আড়ালে নৌকা লুকিযে রেখে পাহাড় বেয়ে চলে যাবে ঘরে। দেখবে প্রিয় সন্তানদের মুখ। বাচ্চাদুটো হয়ত তার অপেক্ষায় থেকে থেকে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে যাবে। প্রতি সপ্তাহেই একই ঘটনা ঘটে। আলো আর আবীর তাদের বাবার পথ চেয়ে বসে থাকে প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে। তারা সারা সপ্তাহ দিন গোনে করে আসবে বৃহস্পতিবার। এই রাতে যে তাদের বাবা আসে। সন্ধ্যা থেকেই ঘড়ি দেখতে থাকে দু’ভাই-বোন। আলো একটু বড় তার বয়স ৯ বছর আর আবীরের মাত্র ৪ বছর। আবীর বায়না ধরে ‘বাবা এলে ভাত খাব’। মা অনেক বুঝিয়ে ভাত খাইয়ে দেয় তাকে আর খাওয়ার পরেই ঘুমিয়ে যায় আবীর। আলো বই পড়া শেষ করে ঝিমুতে থাকে, চোখ বন্ধ হয়ে যায় আবার লাফিযে ওঠে। বারেবারে ঘড়ি দেখে। ‘আম্মু, আর কতক্ষণ পর আব্বু আসবে?’
‘তুমি ঘুমিয়ে যাও। তোমার আব্বু এলে তোমাকে ডেকে ওঠাবে।’
অনিচ্ছা সত্ত্বেও আলো ঘুমিয়ে যায়। কিন্তু ওর ঘুমটা গভীর হয় না। কিছুক্ষণ পরপর জেগে ওঠে। ‘আম্মু, এখনো আব্বু আসেনি?’
– নারে মা। ঘুমাও তুমি। তোমার আব্বু এলেই তোমাকে ডাকবো।

বহুদূরে আলো জ্বলতে দেখে চমকে ওঠে আব্দুল মোমেন। এতো রাতে আলো! তারমানে ট্রলার আসছে। খুব দ্রুত আলোটা কাছে চলে আসতে লাগলো। আব্দুল মোমেনের বুকটায় হাতুড়ি পিটা হতে লাগলো। এটা নিশ্চয়ই দস্যুদের নৌকা। সে দ্রুত নৌকাটা পাহাড়ের কোলে নিয়ে যায়। কিনারায় নৌকা বেঁধে দ্রুত লুকিয়ে পরে গাছের আড়ালে। বড় বড় ভয়ার্ত চোখে দেখে একটা ট্রলার ভটভট আওয়াজ করে নদীতে পানিতে ঢেউ তুলে এগিয়ে যাচ্ছে। যেতে যেতে কেউ একজন টর্চ ফেলে এপাশ-ওপাশ দেখতে লাগলো। ট্রলার থেকে রেডিওতে গান বাজার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। থেকে থেকে কয়েকজন মানুষের হো হো হাসি কানে আটকে যাচ্ছে।

ট্রলার চলে গেলে আব্দুল মোমেন বুকে থুথু ছিটায়। বড্ড ভয় পেয়েছে সে, আল্লাহকে ডাকতে ডাকতে তার গলা শুকিয়ে গেছে। এই জলদস্যুরা খুব ভয়ংকর। এদের হাতে ধরা পরা মানে জীবন শেষ। তার উপর সে পুলিশ। দস্যু-পুলিশের সম্পর্ক চিরকালই আদায়- কাঁচকলা।

আব্দুল মোমেন আবার বৈঠা বাইতে থাকে। ছলাৎ ছলাৎ শব্দে এগিয়ে চলে নৌকা এইত আর কিছুদূর গেলেই তার যাত্রা শেষ হবে। এক মনে জোরে জোরে হাত চালাতে থাকে সে। হঠাৎ একটা ছরায় একটা ঘুর্ণি বাতাস উঠলো। তীব্র বাতাস পাহাড়ে ধাক্কা লেগে শোঁ শোঁ শব্দ হতে লাগলো। পাহাড়ের গাছগুলো থরথর করে কাঁপছে লাগলো। ভয়েতে ঠান্ডা একটা অনুভুতি আব্দুল মোমেনের শিরদাঁড়া বেয়ে নেমে গেল। পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে কত অজানা রহস্য লুকিয়ে আছে তা অজানা নয় আব্দুল মোমেনের। অশরীরী প্রেতাত্মা বিশ্বাস না করলেও জিন বিশ্বাস করে সে। পাহাড়ের নিরিবিলি গাছগুলো জিনদের খুব পছন্দ। এসব ভাবতে ভাবতে তার শরীর অবশ হয়ে গেল। গা ছমছম অনুভূতি নিয়ে আবার নৌকা চালাতে থাকে সে। ঘাটের ঠিক একটু আগেই বিলাইছড়ি পুলিশ ক্যাম্প। দু’জন সিপাহী ঘাটপারে পাহারায় থাকে যেন কোন দস্যু বা আতংবাজী আক্রমণ করতে না পারে। তারা একটু পর চিৎকার করে বলে ‘দাঁড়ান! কে যায়?’

হঠাৎ কাউকে দেখতে পেলে ওরা ঠাস করে গুলি করে দেবে। আব্দুল মোমেন দ্রুত বৈঠা বেয়ে ঘাট পার হয়। এক সিপাহী তখন ও আনমনে চিৎকার করছে ‘কে যায় দাঁড়ান। হুশিয়ার—সাবধান’।

ঘাটের পাশে ঝোপের ভেতর নৌকা লুকিয়ে রেখে হাসি মুখে পাহাড় বেয়ে ওঠে আব্দুল মোমেন। পাহাড়ী সাপগুলো বড্ড বিষক্ত, কামড় দিলেই জমের দুয়ারে পৌঁছে যেতে হবে। কিন্তু তার এসব মাথায় নেই। তার চোখে কেবল ভাসছে সন্তানদের হাসিমাখা মুখ দুটো।

ঘরের দুয়ারে গিয়ে আব্দুল মোমেন ছোট করে ডাক দিল ‘আলো! অবীর, ঘুমিয়ে গেছ তোমরা?’
– আসছি, দাঁড়াও।
ঘরে ঢুকেই ছেলে- মেয়ের খোঁজ করে আব্দুল মোমেন।
– তোমার আপেক্ষায় থাকতে থাকতে প্রকটু আগে ওরা ঘুমিয়ে গেল।
– ওদের ডাক।
– তুমি হাত মুখ ধুয়ে খেয়ে নাও তারপর ডাকি।
– না, তুমি ওদের ডাক। এই যে লিচু আনছি ওদের জন্য।
– লিচু কই পেলে?। পাহাড়ে তো আম-কাঁঠাল ভরা কিন্তু লিচু তো পাওয়াই যায় না।
– গতকাল একজন কাপ্তাই শহরে গিয়েছিলো। তাকে বলে ছিলাম একশো লিচু নিয়ে আসতে। বছরের ফল ছেলে-মেয়ে দুটো দুটো খাবে না তাই কি হয়?
– আলো মা, ওঠো। আমার আব্বাটা কই দেখি।

আলো আর আবীর বাবার ডাক শুনেই খুশিতে লাফ দিয়ে বিছানায় ওঠে বসে। ঘুমে ওদের চোখ লাল তবুও বাবার ডাকে সব ঘুম পালিয়ে গেল। দু’জনে একসাথে বাবার গলা জড়িয়ে ধরলো।

আবীর গত এক সপ্তাহের সব গল্প বলতে শুরু করলো। ছোট-দুটি হাত নেড়ে নেড়ে, থুতনি ঝুলিয়ে, গাল ফুলিয়ে, ঠোঁট বাঁকা বাঁকা করে সে বিভিন্ন গল্প বলতেই থাকে। আব্দুল মোমেন মন দিয়ে তার গল্প শোনে। গল্পে কখন বোনের বিরুদ্ধে নালিশ, কখন মায়ের উপর অভিমান ঝড়ে পরে। আবুল মোমেন তাদের উপর কপট রাগ দেখিয়ে ধমক দেয় এতে হেসেই কুটি কুটি হয় আবীর।

– আব্বু তুমি কত ভালো। তুমি আর যেও না। তুমি আমাদের সাথে থেকে গেলে কী হয়!
– চাকরি করতে হয় যে বাবা। চাকরি না করলে তোমাদের জন্য টাকা কই পাব?।
– আমি বড় হলে অনেক বড় চাকরি করবো। তখন তোমাকে আর টাকা আনতে দূরে যেতে হবে না। তুমি আমাদের সাথেই থাকবে।

ছেলের কথায় খুশিতে চোখে পানি এসে যায় আব্দুল মোমিনের। বুকে জড়িয়ে ধরে তাকে। এরা তার হীরে-মানিক। তার সাত রাজার ধন।

আলো আর আবীর বাবার কোলে বসে লিচু খায় ওদের মা সংসারের প্রয়োজনীয় কথা সারে। আব্দুল মোমেন ছেলে-মেয়েদের কোলে নিয়ে শুয়ে থাকে। তার মনে হয় এই তো স্বর্গ। এতোটা পথ নৌকা বেয়ে যাওয়া-আসার কষ্ট মুহূর্তেই ভুলে যায় সে। এই সুখের জন্যই যে এতো ঝড়-ঝাপটা পাড়ি দিয়ে ছুটে আসে।আলো আর আবীর বাবার গলা জড়িয়ে ঘুমিয়ে পরে।

আব্দুল মোমিন সন্তানদের জড়িয়ে শুয়ে তাকে। কিছুক্ষণ পর ঘুমিয়ে থাকা সন্তানদের মুখে চুমু দিয়ে উঠে পরে সে। তাকে এখন ফিরতে হবে। ভোরের আলো ফোঁটার আগেই তাকে আবার পৌঁছে যেতে হবে গাছকাটাছড়ি ক্যাম্পে। না হলে খুব বিপদে পরতে হবে। ক্যাম্প কমান্ডার সকালে তাকে দেখতে না পারলে মহা ঝামেলা করবে।

আব্দুল মোমেন তড়িঘড়ি তৈরি হয়ে নেয়। সন্তানদের আবার আদর করে স্ত্রীকে ওদের দেখে রাখতে বলে ঘর ছেড়ে বের হয়। যেতে যেতে পিছনে ফিরে দেখে,বরাবরের মতোই তার স্ত্রীর চোখ দুটো ঝলঝল করছে।

নৌকায় উঠে আব্দুল মোমেন আবার হাতে তুলে নেয় বৈঠা। সন্তানদের জন্য তার মনটা আনচান করে। সে জানে সকালে ঘুম ভেঙে তাকে না দেখে বাচ্চাদুটো মন খারাপ করবে। আবীর ঠোঁট ফুলিয়ে অভিমান করবে। আলো নদীর দিকে চেয়ে থাকবে। আর বলবে ‘কষ্ট পাসনে ভাই। আব্বু ৭ দিন পর এই নদী দিয়েই আবার আসবে’। তারপর ওরা আবার দিন গুনতে থাকবে। একদিন, দুইদিন, তিনদিন…

আকাশ ভরা জোছনা। একটু পরেই ফজরের আযান হবে। শেষ রাতের বেলেবেলে জোছনা দেখতে খুব ভালো লাগে তার। দমকা বাতাস এসে তার মাথার ক্যাপটা উড়িয়ে নিতে চায়। সে হাত দিয়ে ধরে রাখে সেটা। এই ক্যাপটা তার ভীষণ প্রিয়। এই ক্যাপ তার চাকরি জীবনের সম্মান। এ ক্যাপের তার কাছে আরেকটা সন্তান। আনমনে এসব ভাবতে ভাবতে আব্দুল মোমেন ছরার মাঝ বরাবর দিয়ে নৌকা চালাতে থাকে। সে ভুলেই যায় সামনে পুলিশ ক্যাম্প এখন তাকে কিনারা ঘেঁষে সাবধানে বৈঠা বাইতে হবে।

হঠাৎ একটা চিৎকারে আব্দুল মোমেনের হুস ফিরে আসে।
‘কে যায়! নৌকা নিয়ে কে যায়? কে যায় দাঁড়ান বলছি, নইলে গুলি করে দেব’।
আব্দুল মোমেন বুঝতে পারে পুলিশ ক্যাম্পের পাহারাদার সিপাহী তাকে দেখে ফেলেছে। তার মাথা চক্কর দিতে থাকে। সে কি করবে বুঝতে পারে না। সে তার ক্যাম্প থেকে কাউকে না বলে এসেছে কারন ক্যাম্প ছেড়ে আসার পারমিশন নেই। দুই তিন মাস পর দুই দিনের ছুটি দেয় বাসায় আসার জন্য কিন্তু এতো দিন সন্তানদের ছেড়ে থাকতে পারে না বিধায় এভাবে চোরের মত লুকিয়ে সন্তাদের এক নজর দেখতে আসে সে।

হঠাৎ আব্দুল মোমেনের মন বলে উঠলো ‘পালা।’ সে গায়ের সমস্ত শক্তি দিয়ে শপাং শপাং বৈঠা বাইতে শুরু করলো। আবার চিৎকার ভেসে এলো।
‘কে যায়! দাঁড়ান বলছি, নইলে কিন্তু সত্যি ফায়ার করবো’।

কথাটা শুনেই আব্দুল মোমনের হাতের বৈঠা পানিতে পরে যায়। বেলে জোছনায় সে দেখছে তার বৈঠা ভেসে যাচ্ছে।
তারপর একটা শব্দ ‘ঠাস’!
আব্দুল মোমেন নৌকায় লুটিয়ে পরে। গুলির আঘাত তার সাধের ক্যাপ পানিতে ঘসে পড়ে। সেটা ভাসতে ভাসতে চাল যায় দূরে। আব্দুল মোমেন চোখ পিটপিট করে আকাশে তাকিয়ে দেখে বেলেবেলে জোছনার গায়ে লাল দাগ, রক্তের মতো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here