বৃষ্টিভেজা একটি সন্ধ্যা

0
304

আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে গেছে। ঠাণ্ডা বাতাস বইছে। বাতাসে নারকেল গাছের পাতারা সব একপাশে নুয়ে যাছে। জানালা দিয়ে এই দৃশ্য দেখে শ্রেয়ানের মনটা নেচে ওঠার কথা, গুনগুন করে গান করে ওঠার কথা। কিন্তু শ্রেয়ান বিরক্ত হছে। কারণ আজ সন্ধ্যা ৭টায় ওর বাস। সেমিস্টার ব্রেকে বাড়ি যাছে। বৃষ্টির মধ্যে দূরের যাত্রার চেয়ে বিরক্তিকর আর কিছু হতে পারে না। ব্যাগ গোছানো হয়ে গেছে অনেকক্ষণ।

জিন্সের উপর একটা টি-শার্ট গলিয়ে ব্যাগ কাঁধে ঝুলিয়ে শ্রেয়ান বেড়িয়ে পড়লো। দরজায় তালা লাগাছে এমন সময় ওর মা ফোন করল,
– কি-রে শ্রেয়ান, রওনা হয়েছিস?
– হ্যাঁ আম্মা, বের হইছি। বাস ৭টায়।
– আচ্ছা, জানিস আজ তোর জন্য ৫ কেজি গরুর মাংস আনিয়েছি। সবটা একসাথে রান্না করে রেখেছি, জ্বাল দিতে দিতে যাতে ঝুরা হয়।
– ইউ আর গ্রেট আম্মা। আমার মন চাচ্ছে রকেটে চড়ে চলে আসি।
মা হাসলো। শ্রেয়ান বলল,
– আচ্ছা আম্মা, রাখি এখন বেরুছি।
– আচ্ছা বাবা, সাবধানে আয়। বের হওয়ার আগে ৩ বার আয়াতুল কুরসি পড়বি।
– আচ্ছা আচ্ছা আম্মা ঠিকাছে।

শ্রেয়ান বাসা থেকে বের হতেই দেখলো বাসার সামনেই একটা রিকশা দাঁড়িয়ে আছে এবং রিকশার মধ্যে আফরা বসে আছে। ওকে দেখতে পেয়েই একটা হাসি দিল। মেয়েটা হাসলে গালে টোল পড়ে, দেখতে বেশ লাগে। কিন্তু এখন শ্রেয়ানের ভালো লাগলো না। কারণ এই ঝড়ের মধ্যে আফরা ওকে না বলে এসেছে। জানে আজকে আসতে চাইলে ও নিষেধ করবে তাই এই ব্যবস্থা। মেয়েটা এত খামখেয়ালি! মাঝে মাঝে মন চায় দুই গালে দুইটা চড় বসাতে। আফরা হাসি হাসি মুখ বজায় রেখেই রিকশার বাম পাশে সরে বসে বলল,
– উঠে আসো। রিকশা কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত নিয়েছি।
শ্রেয়ান চোখ মুখ কঠিন করে বলল,
– এক্ষুনি রিকশা ঘুরিয়ে বাসায় চলে যাবা।
আফরা অপরাধীর মতো মুখ করে বলল,
– রেগে যাচ্ছ কেন?
– তোমার সাহস দেখে অবাক হছি। ঝড়ের মধ্যে এই সন্ধ্যাবেলা তুমি কেন আসছ? আন্টি তোমাকে বের হতে দিল কীভাবে?
আফরা আবার হেসে বলল,
– আরে আম্মুকে ভুজুংভাজুং দিয়ে বের হয়েছি। তুমি এতদিনের জন্য চলে যাচ্ছ, দেখা করব না আমি?
– এতদিন মানে? মাত্র তো এক সপ্তাহ। আর আজকে চলে যাব বলেই তো কাল দেখা করলাম।
– সেই কালকে দেখা হয়েছে, আজকে তো হয়নি।
– এখন দেখা হয়েছে, চলে যাও।
– নাহ, বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত যাব আমি।
শ্রেয়ান বিরক্ত হয়ে বলল,
– কেন?
– যাতে এতক্ষণ গল্প করতে পারি।
শ্রেয়ানের এত মেজাজ খারাপ হলো যে বলতে মন চাইলো, আরে ছাগল গল্প তো ফোনেও করা যায়। দিনরাত তো কথা বলি, আর কত? কিন্তু বলতে পারলো না। বলল,
– শোনো আফরা আমি তোমাকে আমার সাথে নেব না। কারণ আমি বাড়িতে যাচ্ছি, তোমাকে বাসায় পৌঁছে দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব হবে না।
– আমি জানি তো, ইভেন আমি তোমাকে সি অফ করতেই তো যাচ্ছি।
– এখান থেকেই সি অফ করো।
– আই মিন বাসে তুলে দিতে যাচ্ছি।
– আচ্ছা তারপর আমাকে বাসে তুলে দিয়ে তুমি এই ঝড়বৃষ্টির মধ্যে একা একা বাসায় ফিরবা?
– নাহ, রিকশাওয়ালা মামা থাকবে তো আমার সাথে।
– তুমি আমাকে না বলে হুট করে আসছো কেন আফরা?
আফরা মুখ কাঁচুমাচু করে বলল,
– বলে আসলে তো আসতে দিতে না।
শ্রেয়ান কপাল কুঁচকে বলল,
– নিজ দায়িত্বে আসছ, নিজ দায়িত্বে চলে যাবা। আমি তোমার কোনো দায়িত্ব নিতে পারবো না।
এ কথা বলে শ্রেয়ান অন্য একটা রিক্সা ডেকে উঠে পড়লো। রিকশা চলতে শুরু করতেই আফরা ফোন করল শ্রেয়ানকে। শ্রেয়ান ফোনটা ধরলো না, উলটো কেটে দিল। আফরার রিক্সা শ্রেয়ানের রিকশার পিছনেই। আফরা মেসেজ দিলো, প্লিজ শ্রেয়ান ফোনটা ধরো। এবারই শুধু, আর কখনো এমন করবো না।

শ্রেয়ান কোন উত্তর দিলো না। খুব বিরক্ত লাগছে ওর। আফরার সাথে যতবার দেখা হয়েছে, যেখানেই দেখা হোক না কেন বাসায় পৌঁছে দিয়েছে ও। নাহলে টেনশন হতে থাকে। ইভেন আফরা একা কোথাও বের হলেও যতক্ষণ না বাসায় পৌঁছায়, ওর টেনশন হতে থাকে। সেই ও কিনা রাত্রিবেলা কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ডে আফরাকে একা রেখে চলে যাবে!

আফরা আবার মেসেজ দিলো, আমি আজকে কল্যাণপুর যাবোই এবারো শ্রেয়ান উত্তর দিল না। চারিদিকে তখন ভয়ঙ্কর ঝড়ো হাওয়া বইতে শুরু করলো। তবে বৃষ্টি নামেনি এখনো। ধুলোয় কিছু দেখা যাছে না। শ্রেয়ান পেছনে ফিরে দেখলো আফরা শক্ত করে রিকশা ধরে ওড়না দিয়ে চোখ ঢেকে রেখেছে। শ্রেয়ান রিকশা থেকে নেমে ভাড়া মিটিয়ে গু-াদের মতো করে আফরার রিকশা থামালো। রিকশা থামতেই আফরা তৃপ্তির হাসি নিয়ে সরে বসলো, শ্রেয়ান উঠতেই রিকশা ছেড়ে দিল। আফরা শ্রেয়ানের হাতটা জড়িয়ে ধরে বলল,
– থ্যাংক ইউ।
– ভুলেও ভেবো না তোমার ত্যাড়ামির জন্য আমি এলাম। এই ঝড়ের মধ্যে তুমি একা তাই এসেছি।
আফরা হেসে বলল,
-আচ্ছা ঠিকাছে।

আফরার চুলগুলো পাগলের মত উড়ছে। কাজলে আঁকা বড় বড় চোখে খুশি উপচে পড়ছে। ঠোঁটে তৃপ্তির হাসি, গালের টোলটা তো আছেই বুকের ভেতর মাদল বাজাবার জন্য। শ্রেয়ান চোখ ফিরিয়ে নিল, নাহলে রাগ পড়ে যাবে, আর রাগ পড়ে গেলে বিপদ আছে কপালে। গার্লফ্রেন্ড এমন এক প্রজাতি যাদের সাথে একবার একটা কিছু করলেই সেটা তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়। আজ যদি ও গলে যায় তাহলে প্রতিবারই বাড়ি যাওয়ার সময় আফরা সাথে আসবে। ও তো আর বুঝবে না রাতবিরাতে গার্লফ্রেন্ডকে একা রিকশা করে পাঠিয়ে দেয়াটা কতটা টেনশনের হতে পারে! পুরো রাস্তা শ্রেয়ান কোনো কথা বলল না। রিকশায় উঠলে শ্রেয়ান আফরাকে ধরে বসে, আজ তাও করলো না। আফরাই শ্রেয়ানের হাতটা ধরে কাঁধে মাথা ঠেকিয়ে বসে রইলো।
কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ডে এসে শ্রেয়ান রিকশা থেকে নেমে ভাড়া দিচ্ছিল, আফরা নামতেই শ্রেয়ান বলল,
– এই মেয়ে তোমাকে নামতে কে বলল? এখনি এই রিকশা করেই চলে যাও।
আফরা ভয় পেয়ে চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলো। শ্রেয়ানের মনে হলো ও খুব বেশিই কঠিন হয়ে গেছে। মায়া হলো হঠাৎ! ধুর কে যে বলছিল প্রেম করতে! এসব ঝামেলা আর ভালো লাগে না।
শ্রেয়ান আফরার হাত ধরে নিয়ে কাউন্টারের এক কোণায় বসলো। তারপর একটু নরম স্বরে বলল,
– কেন এমন করলে আফরা? আমি তো তোমাকে দিয়ে আসতে পারবো না, সেই সময় নেই। তোমাকে একা ছাড়তে আমার টেনশন হয় জানো না?
আফরা বলল,
– সরি কিন্তু তোমাকে দেখতে খুব ইছে করছিল। প্রতিদিন যেখানে দেখা হয় ৭টা দিন সেখানে অনেক!
– জানিতো কিন্তু বাড়িতেও তো যেতে হবে, মা অপেক্ষা করছে। কতদিন যাই না বলোতো।
– আরে তোমাকে কি আমি যেতে বাধা দিতে আসছি নাকি? আমি তো তোমাকে এগিয়ে দিতে এলাম।
– ভালো করসো, আর কখনো এমন করবা না প্রমিজ?
আফরা চুপ করে রইলো। শ্রেয়ান আফরার হাত ধরে বলল,
– প্রমিজ?
আফরা গোমড়া মুখ করে বলল,
– প্রমিজ।
এবার শ্রেয়ানের মুখে হাসি ফুটলো। বলল,
– আচ্ছা বাবা এবার তুমি চলে যাও। আমার বাসের আর ১৫ মিনিট আছে।
– ১৫ মিনিট পরেই নাহয় যাই?
– না, আমার যাওয়া দেখতে তোমার আরো খারাপ লাগবে।
– লাগবে না, ১ সপ্তাহ পর তো তুমি চলেই আসবা।
– সবসময় জেদ কেন করো তুমি?
আফরা মাথা নিচু করে ফেলল, ওর খুব কান্না পাছে। সত্যিই তো কেন ও সবসময় জেদ করে শ্রেয়ানকে বিরক্ত করে? শ্রেয়ান বলল,
– ঠিক আছে আর ১০ মিনিট থেকে চলে যাবা ওকে?
আফরা খুশি হয়ে হেসে বলল,
– আচ্ছা।
আবার গালে টোল পড়লো। শ্রেয়ান আফরার গালে হাত রেখে বলল,
– এত পাগলী কেন তুই?
আফরা আবার হেসে দিল, এবার প্রাণখুলে হাসলো। শ্রেয়ান হাসি হাসি মুখ করে বলল,
– আই লাভ ইউ।
– আই লাভ ইউ টু।
টুকটাক গল্প করতে করতে ১০ মিনিট পেড়িয়ে গেল। আফরা জোর করে আরো ৫ মিনিট থাকলো। যখন শ্রেয়ানের বাস এসে গেল, শ্রেয়ান আফরাকে রিকশা ঠিক করে দিল। বাতাস থেমে গেছে, বৃষ্টিও নামেনি এখনো তবে মেঘ আছে যখন তখন নেমে যেতে পারে। তাই রিকশাওয়ালাকে জিজ্ঞেস করে নীলপর্দা আছে কিনা। রিকশাওয়ালা জানালো আছে। আফরা রিকশাায় উঠতেই শ্রেয়ান হুড উঠিয়ে দিল। তারপর বলল,
– আজকেও ওড়না চাকার কাছে ঝুলছে, কোলের মধ্যে নিয়ে বসো।
আফরা হকচকিয়ে ওড়নাটা গুছিয়ে কোলে নিয়ে ব্যাগ চাপা দিলো। তারপর শ্রেয়ানের দিকে তাকিয়ে হাসলো। শ্রেয়ান বলল,
– সাবধানে যাও, বাসায় গিয়ে অবশ্যই ফোন দিবা।
– আচ্ছা।
রিকশা ছাড়তেই শ্রেয়ান হাক ছেড়ে রিক্সাওয়ালাকে বলল,
– ওই মামা সাবধানে চালাইয়ো।

শ্রেয়ান বাসে উঠেই নিজের সিট বুঝে নিয়ে বসলো। তারপর বাস ছাড়তেই আফরাকে কল দিল কিন্তু আফরা ধরলো না। শ্রেয়ান আবার কল দিলো, আফরা ধরলো না এবং শ্রেয়ান টেনশনে পড়ে গেল। আবার ফোন দিতে যাবে এমন সময় আফরা মেসেজ করলো, বাসায় গিয়ে কথা বলব, তোমার বাস ছেড়েছে? শ্রেয়ানের মেজাজ খারাপ হলো, এ আবার কী ঢঙ! শ্রেয়ান লিখলো,
– ফোন ধরো।
তারপর আবার কল দিল। আফরা কেটে দিয়ে লিখলো,
– বললাম তো বাসায় গিয়ে কথা বলব, এখানে অনেক আওয়াজ।
শ্রেয়ান লিখল,
-আওয়াজ কী মা কী… ফোন ধর তুই এক্ষণই।
শ্রেয়ান আবার কল দিল। আফরা আবার কেটে দিল। শ্রেয়ান আবার মেসেজ দিল, – আফরার বাচ্চা, ফোন ধর নাহলে এখন বাস ছেড়ে নেমে এসে থাপড়াবো তোরে।
এই মেসেজটা পেয়ে আফরা ফোন ধরলো। গলাটা যথাসম্ভব স্বাভাবিক রেখে হ্যালো বলল। শ্রেয়ান যা ভেবেছিল তাই, আফরা কাঁদছিল! আর এজন্যই ফোন ধরছিল না। মেজাজটা আরো খারাপ হয়ে গেল। ধমক দিয়ে বলল,
– কাঁদছ কেন তুমি?
– কই না তো!
কিন্তু আফরায় গলা কান্নায় ভেঙে পড়েছে। কোনোভাবে কন্ট্রোল করতে পারছে না। ছি! ছি! কী ভাবছে শ্রেয়ান! ভাবছে না তো যে ওকে যেতে দিতে চাচ্ছে না বলে আফরা কাঁদছে? কিন্তু এমনটা তো না। আল্লাহ্ শ্রেয়ান যেন ভুল না বোঝে। আসলে এভাবে আসাটাই ভুল হয়েছে। চোখের সামনে বিদায় দেয়াটা খুবই কষ্টের কাজ। শ্রেয়ান বলল,
– নখরামি করবা না, বলো কাঁদছ কেন?
– কাঁদব কেন আমি এক সপ্তাহ পর তো তুমি চলেই আসবা।
কান্না থামাতে গিয়ে আরো বেড়ে যাছে। শ্রেয়ান বলল,
– কোথায় তুমি?
– এই তো কল্যানপুরেই।
শ্রেয়ান ওয়ালেট খুলে দেখলো মাত্র ৬০০ টাকা আছে, এতে তো আবার বাসের টিকেট হবে না। কিন্তু ট্রেনের টিকেট অনায়াসে হয়ে যাবে। কিন্তু কালই টিকেট পাবে কোথায়? আচ্ছা স্ট্যান্ডিং টিকেটেই নাহয় যাবে। ভাবনা শেষ করে শ্রেয়ান বলল,
– আফরা রিকশা ঘুরাও, কাউন্টারে আসো। আমি আসতেসি।
– আরে না না। তোমার তো বাস ছেড়ে দিসে। আমি বাসায় চলে যাচ্ছি।
– তোমাকে বলসি রিকশা ঘুরাও।
– মাকে বলে দিয়েছ না যে আজকেই যাচ্ছো? প্লিজ যাও। আমার সত্যি শখ হয়েছিল তোমাকে বাসে তুলে দেয়ার। কিন্তু যেতে দেখলে এমন মন খারাপ হয়ে যাবে ভাবতে পারিনি সরি।
– আচ্ছা বুচ্ছি, তুমি রিকশা ঘুরাও।
– শ্রেয়ান সত্যিই আমি এমনটা চাইনি। প্লিজ তুমি যাও।
শ্রেয়ান ততক্ষণে বাস থামিয়ে নেমে গেল। তারপর ধমক দিয়ে বলল,
– তোরে না বলসি রিকশা ঘুরাইতে? এক্ষুণি কাউন্টারে ব্যাক কর। আমি নেমে গেসি।
এ কথা বলে শ্রেয়ান ফোন রেখে দিল এবং কাউন্টারে গেল। এটুকু হেঁটে আসতে আসতে আফরাও রিকশা ঘুড়িয়ে এসে গেল। শ্রেয়ান রিকশায় উঠে বসে রিক্সাওয়ালাকে বলল,
– মামা যাও।
রিকশাওয়ালা বলল,
– এইবার কই যামু মামা?
– এই আপারে নিয়া তোমার কই যাওয়ার কথা ছিল ভুইলা গেছ?
– না মামা পাইকপাড়া।
– তো তুমি পাইকপাড়াই যাইবা, যাও।
রিকশা চলতে শুরু করতেই আফরা বলল,
-সরি, আমি এমনটা চাইনি।
শ্রেয়ান আফরার পিছনে হাত নিয়ে আফরাকে ধরে বসে বলল,
– আই নো, আমি তোমাকে তোমার চেয়ে একটু হলেও বেশি চিনি। কিন্তু তোমাকে এভাবে কাঁদিয়ে আমি যাই কীভাবে বলো? সারা রাস্তা এবং যতদিন থাকতাম ততদিন এই কান্না আমার কানে বাজতো।
– সরি সরি, আমি আর কখনো তোমাকে বিদায় দিতে আসব না।
শ্রেয়ান আফরাকে আরো কাছে টেনে নিল। কপালের পাশে চুমু খেয়ে বলল,
– ইটস ওকে এন্ড সরি ফর মাই রুড বিহেভ। রাগাও কেন আমাকে?
আফরা হেসে বলল,
– এসব আর নতুন কী? কিন্তু এসবে আমার কিছু যায় আসে না কারণ তুমি দুনিয়ার বেস্ট বয়ফ্রেন্ড।
– আর তুমি দুনিয়ার সবচেয়ে খামখেয়ালি গার্লফ্রেন্ড।
রিকশাওয়ালা বলল,
– মামা বৃষ্টি নামতাসে, পর্দা দিমু?
– না মামা, তুমি বরং হুডটা খুইলা দাও। দুইজন মিলা ভিজি।
আফরা বলল,
– তোমার ব্যাগ ভিজে যাবে না?
– কাপড় ছাড়া কিছু নেই, বাসায় গিয়ে মেলে দিলে শুকিয়ে যাবে।
– আচ্ছা, তাহলে ভিজি চলো।

শ্রেয়ান মোবাইল, ওয়ালেট সব আফরার ব্যাগে দিয়ে দিল। হুড নামিয়ে দিয়ে যখন ওরা বৃষ্টি বিলাস করছিল তখন আফরা হাসছিল শ্রেয়ানের দিকে তাকিয়ে, ওর মনে হতে লাগলো ও পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ। শ্রেয়ান মুগ্ধ চোখে দেখছিল খামখেয়ালি, বোকা ও ভালোবাসায় অন্ধ হয়ে যাওয়া মেয়েটিকে। রিকশা ছুটে চলছে কল্যাণপুর টু পাইকপাড়ার অলিতে গলিতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here